📢 Ad
🚩 Report Video
হাওড়ায় গব্বরের তাণ্ডবে আতঙ্কিত ব্যবসায়ীরাও
Howrah, West Bengal, India, West Bengal
274 views •
May 13, 2026
লিচুবাগানে ফের আতঙ্কের ছায়া, ‘গুড্ডু’কে ঘিরে চাঞ্চল্য
“বেটা, জলদি শো যা… নাহি তো গাব্বার আ যায়েগা”— শোলে সিনেমার এই স
লিচুবাগানে ফের আতঙ্কের ছায়া, ‘গুড্ডু’কে ঘিরে চাঞ্চল্য
“বেটা, জলদি শো যা… নাহি তো গাব্বার আ যায়েগা”— শোলে সিনেমার এই সংলাপ একসময় ছিল নিছক পর্দার ভিলেনি। কিন্তু হাওড়ার লিচুবাগানের বহু বাসিন্দার দাবি, এখন সেই ভয়ের আবহ যেন বাস্তবের গলিতেই ফিরে এসেছে। সন্ধ্যা নামলেই দ্রুত বন্ধ হয়ে যাচ্ছে দোকানের শাটার, থমকে যাচ্ছে চায়ের আড্ডা, আর মোটরবাইকের শব্দ শুনলেই আতঙ্ক ছড়াচ্ছে এলাকায়।
এই আতঙ্কের কেন্দ্রে উঠে আসছে মাসুদ আলম খান ওরফে ‘গুড্ডু’-র নাম। এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই তিনি বিতর্কিত ও প্রভাবশালী মুখ হিসেবে পরিচিত। অতীতে তাঁর বিরুদ্ধে তেলের ট্যাঙ্কার লুট, ছদ্মবেশে অপরাধচক্র পরিচালনা-সহ একাধিক অভিযোগ উঠেছিল। যদিও সেই অভিযোগগুলির বিষয়ে তাঁর তরফে প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।
রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে গুড্ডুর রাজনৈতিক পরিচয়ও বদলেছে বলে স্থানীয়দের দাবি। একসময় বাম ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত হলেও পরে তিনি শাসক ঘনিষ্ঠ বলয়ে প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন। তাঁর স্ত্রী নাসরিন খাতুন কাউন্সিলর নির্বাচনে জয়ী হন এবং সংখ্যালঘু সংগঠনের বিভিন্ন ক্ষেত্রেও তাঁদের সক্রিয়তা বাড়ে।
তবে লিচুবাগানের বর্তমান অস্থিরতার শিকড় আরও গভীরে প্রোথিত। ২০২১ সালে গুড্ডুর ভাই ওয়াজুল হক খুন হন। সেই হত্যাকাণ্ড ঘিরে শুরু হয় পরিবারভিত্তিক সংঘাতের নতুন অধ্যায়। নিহতের ছেলে আরিফ আহমদ খানের অভিযোগ, তাঁর বাবার খুনে জড়িত ছিলেন গুড্ডু নিজেই। মামলাটি এখনও বিচারাধীন।
এরপর ২০২৩ সালে আরিফের বাড়িতে হামলা, মারধর এবং আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে চড়াও হওয়ার অভিযোগে গুড্ডুকে গ্রেফতার করে পুলিশ। দীর্ঘ সময় জেল হেফাজতে থাকার পর তিনি জামিনে মুক্তি পান।
এলাকার একাংশের অভিযোগ, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর থেকেই গুড্ডু আবার নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ে এলাকায় সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। বিভিন্ন গলিতে নতুন পতাকা টাঙানো, সিসিটিভি ভাঙচুর, দোকানদারদের হুমকি এবং বিরোধী শিবিরের কর্মীদের মারধরের মতো অভিযোগ উঠছে তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে।
এক স্থানীয় ব্যবসায়ীর কথায়,
“রাতে দোকান খোলা রাখার সাহস পাচ্ছি না। কার সঙ্গে কথা বলছি, সেটাও ভেবে বলতে হচ্ছে।”
অন্যদিকে এক তৃণমূল কর্মীর দাবি,
“যাঁরা এতদিন একই দলে ছিলেন, তাঁরাই এখন ভয়ে এলাকা ছাড়ছেন। রাজনৈতিক রং বদলেছে, কিন্তু আতঙ্কের চরিত্র বদলায়নি।”
এই ঘটনায় রাজনৈতিক তাৎপর্যও যথেষ্ট গভীর। কারণ, এখানে সংঘাত কেবল দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং বহু বছরের ব্যক্তিগত শত্রুতা, দখলদারি এবং প্রভাব বিস্তারের লড়াই নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের মধ্যে নতুন রূপ নিচ্ছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে— মতাদর্শ কি ক্রমশ পিছিয়ে পড়ছে, আর তার জায়গা নিচ্ছে কেবল ‘ক্ষমতার ঠিকানা’?
নাজিরগঞ্জ থানার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেক বাসিন্দা। একাধিক অভিযোগ জমা পড়লেও সাধারণ মানুষের আতঙ্ক কাটছে না বলে দাবি। যদিও পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে এবং কোনও রকম অশান্তি বরদাস্ত করা হবে না।
তবে শেষ পর্যন্ত লিচুবাগানের মানুষের প্রশ্ন একটাই— যে রাজনীতির কেন্দ্রে থাকার কথা ছিল উন্নয়ন ও নিরাপত্তা, সেখানে কেন বারবার ফিরে আসছে দখল, ভয় এবং প্রতিশোধের পুরনো রাজনীতি?
Comments (0)
Please login to leave a comment.