হাওড়া জেলার জগৎবল্লভপুর—শান্ত, সবুজে ঘেরা এক জনপদ। কিন্তু এই নিস্তরঙ্গ গ্রামই বুকে লুকিয়ে রেখেছে এক গভীর ইতিহাস, এক বিহাওড়া জেলার জগৎবল্লভপুর—শান্ত, সবুজে ঘেরা এক জনপদ। কিন্তু এই নিস্তরঙ্গ গ্রামই বুকে লুকিয়ে রেখেছে এক গভীর ইতিহাস, এক বিশ্বাসের শতবর্ষী উত্তরাধিকার।
এই গ্রামেরই পণ্ডিত বাড়িতে আজও বেঁচে আছে এক প্রাচীন ঐতিহ্য—“ধর্মের ঝাঁপ” উৎসব। কথিত আছে, স্বর্গীয় কিশোরী মোহন পণ্ডিত-এর সময় থেকেই এই পূজার সূচনা। আজ থেকে প্রায় একশো বছরেরও বেশি আগে, এক রহস্যময় স্বপ্নাদেশে তিনি বাড়ির পেছনের পুকুর থেকে উদ্ধার করেন প্রায় দু’ফুট উচ্চতার এক অপূর্ব ধর্মরাজ-এর মূর্তি—যার চোখ ছিল সোনায় মোড়া। সঙ্গে ছিল কাঁসার কাসর ও ঘন্টা।
ঐ অলৌকিক প্রাপ্তিকে কেন্দ্র করেই বাড়ির ভিটের ঈশান কোণে একটি ছোট চালা তৈরি করে প্রতিষ্ঠা করা হয় দেবমূর্তি। সেই থেকেই শুরু হয় পূজা—আর ধীরে ধীরে তা রূপ নেয় এক বৃহৎ লোকউৎসবে। “ধর্মের ঝাঁপ”—শুধু একটি ধর্মীয় আচার নয়, এটি হয়ে ওঠে মানুষের মিলনমেলা, ভক্তির এক উজ্জ্বল নিদর্শন।
একসময় এই উৎসবের দিনে পণ্ডিত বাড়ির উঠোন ভরে উঠত মানুষের ভিড়ে। দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তরা ছুটে আসতেন, ধূপ-ধুনোর গন্ধে, শঙ্খধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠত চারদিক। যেন সময় থমকে দাঁড়াত এক অন্য আবহে।
তবে ইতিহাসের পথ সবসময় মসৃণ নয়। পরিবারের সদস্যদের দাবি, একসময় মন্দির থেকে সেই প্রাচীন মূর্তি ও সোনার চোখসহ মূল্যবান সামগ্রী চুরি হয়ে যায়। হারিয়ে যায় এক অমূল্য ঐতিহ্যের প্রতীক। তবুও থেমে থাকেনি বিশ্বাস, থেমে থাকেনি ভক্তি।
আজও সেই পুজো হয়। আজও মানুষের ভিড়ে মুখরিত হয় পণ্ডিত বাড়ি। সময় বদলেছে, প্রজন্ম বদলেছে—কিন্তু “ধর্মের ঝাঁপ” রয়ে গেছে এক অবিচ্ছেদ্য সংস্কৃতি হিসেবে।
এই ঐতিহ্যের গল্প জানতে গিয়ে কথা হয় বাড়ির মেজো পুত্রবধূ চাঁপা বালা পণ্ডিত-এর সঙ্গে। বয়সের ভারে স্মৃতি কিছুটা ঝাপসা হলেও, আবেগে ভরা কণ্ঠে তিনি তুলে ধরেন সেই দিনের কথা—পুরনো দিনের উৎসব, মানুষের ভিড়, আর এক অটুট বিশ্বাসের গল্প।
এইভাবেই, ইতিহাস শুধু বইয়ের পাতায় নয়—গ্রামের মাটিতে, মানুষের মনে, আর এমনই শতবর্ষী উৎসবের মাধ্যমে বেঁচে থাকে… প্রজন্মের পর প্রজন্ম। ...more
Comments (0)
Please login to leave a comment.